বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ যুব, মহিলা ও চট্টগ্রাম অঞ্চল শাখার তিন বছর মেয়াদী পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ এর সভাপতি, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাংঘিক ব্যক্তিত্ব, ঢাকা ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের মহাধ্যক্ষ ভদন্ত বুদ্ধপ্রিয় মহাথের।
অমিতাভ প্রতিবেদন (চট্টগ্রাম) :
এদেশের বৌদ্ধদের রয়েছে সুসমৃদ্ধ ইতিহাস। বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যরাই বাঙালি জাতিসত্ত্বার জনক। তাছাড়া বাঙালি জাতির ইতিহাসের সাথে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ইতিহাস নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন,৬৯ এর গণ অভ্যূত্থান, মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি সংগ্রামের বৌদ্ধদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩ নগরের কাতালগঞ্জস্থ নব পণ্ডিত বিহার প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে খ্যাত সুপ্রাচীন বৌদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ এর অঙ্গ সংগঠন যুব (কেন্দ্রিয়), মহিলা (কেন্দ্রিয়) ও চট্টগ্রাম অঞ্চল শাখার ত্রি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও সম্মেলন ২০২৩- এ বক্তারা উপরোক্ত অভিমত ব্যক্ত করেন।

সম্মেলনে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ যুব, মহিলা ও চট্টগ্রাম অঞ্চল শাখার তিন বছর মেয়াদী (২০২৩-২০২৬) পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ এর সভাপতি, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বরেণ্য সাংঘিক ব্যক্তিত্ব, ঢাকা ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের মহাধ্যক্ষ ভদন্ত বুদ্ধপ্রিয় মহাথের। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজগুরু অভয়ানন্দ মহাথের ও সংঘের মহাসচিব ডিআইজি (অব.) পি. আর. বড়ুয়া ।
জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলনের পর মঙ্গল সুত্র পাঠ করেন ভদন্ত রতনানন্দ ভিক্ষু। সমবেত জাতীয় সংগীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী সম্মেলনের শুভ সূচনা হয়।
প্রধান অতিথি শান্তির পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে যারা নির্বাচিত হয়েছেন সবার প্রতি শুভেচ্ছাভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আমরা চাই আগামীতে নতুন এ কমিটি দুর্বার গতিশীল নেতৃত্বে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় অবদান রাখবে।

সম্মেলনে যুব শাখার ব্রহ্মান্ড-অমরেশ প্যানেলে সভাপতি পদে ব্রহ্মান্ড প্রতাপ বড়ুয়াকে সভাপতি ও ডা: অমরেশ বড়ুয়া চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ৬৫ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়াও সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে শুভাশীষ বড়ুয়া সিন্টু ও শ্যামল চৌধুরীকে নির্বাচিত করা হয়। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ছোটন বড়ুয়া ও সৌমেন বড়ুয়া ডিম্পল নির্বাচিত হয়।
সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব রোটারিয়ান অমরেশ বড়ুয়া চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি শুভাশীষ বড়ুয়া সিন্টু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিজয় বড়ুয়া বাপ্পা, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামল চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক সিজার বড়ুয়া, ধর্ম ও সংস্কৃতি সম্পাদক সুমন বড়ুয়া আবু, প্রচার সংঘ-যুব উত্তর জেলা শাখার সহ-সভাপতি মিন্টূ বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌ. ঝুলেন বড়ুয়া, প্রচার সংঘ-যুব রাঙামাটি শাখার সভাপতি ত্রিদিব বড়ুয়া টিপু, যুব সংগঠক সৌমেন বড়ুয়া ডিম্পল এবং সম্মেলনের আহবায়ক ব্রহ্মান্ড প্রতাপ বড়ুয়া।

তিন পর্বে বিভক্ত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন প্রকৌ. পরিতোষ কুমার বড়ুয়া, পুষ্পেন বড়ুয়া কাজল ও অধ্যাপক স্মৃতি বড়ুয়া। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অঞ্চল কুমার তালুকদার, অধ্যাপক ড. সুব্রত বরণ বড়ুয়া ও চম্পাকলি বড়ুয়া।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ- চট্টগ্রাম অঞ্চল এর সভাপতি পদে প্রকৌ. পরিতোষ কুমার বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক পদে শিক্ষক সমীরণ বিকাশ বড়ুয়া নির্বাচিত হন। সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন অঞ্চল কুমার তালুকদার ও স্বদেশ কুসুম চৌধুরী।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ-মহিলা শাখার সভাপতি পদে লায়ন কেমি বড়ুয়া মুক্তা ও সাধারণ সম্পাদক পদে শিক্ষিকা নেভী বড়ুয়া নির্বাচিত হন। সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন চম্পাকলি বড়ুয়া ও শেলী চৌধুরী।

সম্মেলনে কেন্দ্রিয় কমিটির নেতৃবৃন্দ ও তিন শাখার প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নব পণ্ডিত বিহারের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. উপানন্দ মহাথের, কেন্দ্রিয় কমিটির সহ-সভাপতি লায়ন ডা. মৃদুল কান্তি চৌধুরী, প্রকৌ. সুনীল কান্তি বড়ুয়া, কমলেন্দু বিকাশ বড়ুয়া, কেন্দ্রিয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া, ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া পিএইচডি, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রধান শিক্ষক অনুপম বড়ুয়া, প্রচার সম্পাদক প্রীতিশ রঞ্জন বড়ুয়া, কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য বিনয়ভূষণ বড়ুয়া, স্বদেশ কুসুম চৌধুরী, মানস কুমার বড়ুয়া প্রমুখ।
সভাশেষে বিভিন্ন শাখা কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের উপস্থিতিতে ৬৫ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিটি শাখার কার্যকরী কমিটি (২০২৩-২০২৬) ঘোষণা করেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ এর ঊর্ধ্বতন সিনিয়র সহ-সভাপতি দেবপ্রিয় বড়ুয়া। এ সময় উপস্থিত সকলের মুহুর্মুহু করতালি আনন্দধ্বনির মাধ্যমে সম্মেলনস্থল মুখরিত হয়ে উঠে এবং সফলতার সাথে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।













